রাজবাড়ীতে বর্ষায় নৌপথের ঝুঁকিতে চরাঞ্চলের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যাহত

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ও বরাট ইউনিয়নের চরাঞ্চলে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বর্ষা মৌসুমে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নদীবেষ্টিত অন্তত আটটি গ্রাম জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌপথের দূরত্ব ও ঝুঁকি উভয়ই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনবাজি রেখে খেয়া পারাপার হতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মিজানপুর ও বরাট ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামে চার শতাধিক পরিবারের বসতি। এর মধ্যে চরাঞ্চলের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সারা বছরই নদী পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত ও ঢেউ তীব্র হওয়ায় পারাপারের সময় আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় ব্যয় হচ্ছে। চরাঞ্চলে নিজস্ব কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে শিক্ষার্থীরা নদীর এপারে এসে শিক্ষা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

অনেকে আবার পড়াশোনার জন্য পার্শ্ববর্তী পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর বা দুর্গাপুর এলাকার বিদ্যালয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল। বর্ষায় খাল-বিল ও ডোবা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তাদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিকূল এই পরিস্থিতির কারণে প্রতি বছরই চরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথেই ঝরে পড়ছে। এমনকি আবহাওয়া খারাপ থাকলে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থীকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।

এ বিষয়ে মুন্সী বেলায়েত হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রানী পোদ্দার জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বর্ষাকালে চরাঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। অভিভাবকরা জীবনের ঝুঁকি এড়াতে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। মিজানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতিউর রহমান চরাঞ্চলে দ্রুত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

চরাঞ্চলে বসবাসরত ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং শিক্ষার আলো চরাঞ্চলে পৌঁছে দিতে অবিলম্বে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

0%
0%
0%
0%