দখলকৃত পশ্চিম তীরে ১৩টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিল ইসরায়েল

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কেন্দ্রস্থলে ১৩টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডকে খণ্ডিত করার পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমকে পার্শ্ববর্তী ফিলিস্তিনি জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। ইসরায়েলের চ্যানেল সেভেনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিনিয়ামিন আঞ্চলিক এলাকায় এই অবৈধ বসতি নির্মাণের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।
বিনিয়ামিন অঞ্চলটি পশ্চিম তীরের উত্তর-দক্ষিণ সংযোগকারী প্রধান সড়ক ‘রুট ৬০’-এর পাশেই অবস্থিত। এই সড়কটি নাবলুস, রামাল্লা ও বেথলেহেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিলিস্তিনি শহরগুলোর মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে। ফিলিস্তিনের জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের প্রথম ধাপ শুরু হবে, যেখানে কয়েক মিলিয়ন শেকেল বিনিয়োগের মাধ্যমে চার থেকে ছয়টি নতুন বসতি গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান অননুমোদিত ফাঁড়িগুলোকে বৈধতা দিয়ে সেখানে সরকারি অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রামাল্লার পশ্চিমে ও জেরুজালেমের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসতিগুলোর সংযোগ বাড়ানো এবং কৌশলগত পাহাড়গুলোর ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করা। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এটি মাঠপর্যায়ে নতুন ভৌগোলিক বাস্তবতার জন্ম দিচ্ছে, যা অদূর ভবিষ্যতে একটি নিরবচ্ছিন্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দেবে। তারা এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং বিপজ্জনক উত্তেজনা হিসেবে অভিহিত করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের এই প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভূতপূর্ব হারে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে আটটি নতুন বসতি গড়ে উঠলেও, সেই সংখ্যা ২০২৩ সালে ৩২ এবং ২০২৪ সালে ৬২-এ উন্নীত হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ৮৬টিতে ঠেকেছে। বসতিগুলোর প্রসারে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; ২০২৩ সালে যেখানে ২৮ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ২০২৪ সালে সেই অংক ৭৫ মিলিয়ন শেকেলে পৌঁছায়।
বর্তমানে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা, ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক বসতি সম্প্রসারণ নীতি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ধারণাকে কার্যত অসম্ভব করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা