লালমনিরহাটে ধরলার ভাঙনে দিশেহারা তীরবর্তী মানুষ বিলীন হচ্ছে বসতভিটা

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নে ধরলা নদীর পানি কমার সাথে সাথে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদী রক্ষা বাঁধের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও ব্যাগগুলোও স্রোতের তোড়ে তলিয়ে যাওয়ায় ভাঙন ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের রাতে নদীতীরবর্তী এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। এসময় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায়সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও, পানি নামার সাথে সাথেই ভাঙনের ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। মোগলহাট বুমকা এলাকার কৃষক তাজুল ইসলামসহ ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, প্রতি বছর বন্যা ও ভাঙনের কারণে তাদের পরিশ্রমের সঞ্চয় ও ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। তারা কেবল অস্থায়ী ত্রাণ নয়, বরং ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নদী ও খাল খনন না করায় তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় ধরলা নদীর পানি সামান্য বৃষ্টিতেই লোকালয়ে উপচে পড়ে। নদীপথের গতি পরিবর্তন ও মাঝেমধ্যে অসংখ্য বালুচর জেগে ওঠায় ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় জানিয়েছেন, জেলার সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে এবং আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় সর্বস্ব হারানো এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ভিটেমাটি রক্ষার আকুতি জানিয়েছেন।