বাজিতপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের দুধ বিতরণ নিয়ে অভিভাবকদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা দুধের মান ও বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত দুধের প্যাকেট অপরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি কিছু প্যাকেটে পোকা পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগেও এই কর্মসূচির অধীনে সরবরাহ করা পাউরুটি, ডিম ও কলা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী এক অভিভাবক জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এই নিম্নমানের খাবার শিশুদের খাওয়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভাটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য কেন এমন নিকৃষ্ট মানের খাবার বরাদ্দ করা হবে, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। মূলত মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা দুধের মান নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। একই অবস্থা দেখা গেছে হুমাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রেও; তিনিও বারবার কল করার পরও সাড়া দেননি। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা হলেও, বাস্তবে এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

সচেতন মহল ও স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি স্তরে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি প্রকল্পের নামে শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে এই তামাশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%