সীতাকুণ্ড পৌরসভায় প্রশাসনিক অচলাবস্থায় নাগরিক দুর্ভোগ চরমে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভা বর্তমানে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, সমন্বয়হীনতা এবং চরম জবাবদিহিতার অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত পৌনে দুই লাখ বাসিন্দা দীর্ঘ সময় ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পৌর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কাঠামোগত অস্থিতিশীলতা নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিজ্ঞাপন

পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড তিনটি পৃথক বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ায় দাপ্তরিক কাজে বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা ব্যবস্থাপনা তিনটি আলাদা খাতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা একক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সুশাসনের এই সংকটের ফলে পৌর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

নয়টি ওয়ার্ডের সড়কগুলোর বেহাল দশা জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কের সংস্কার কাজের দরপত্র সম্পন্ন হলেও বাস্তবে কোনো কাজ শুরু হয়নি, যার ফলে খানাখন্দে ভরা রাস্তাগুলোতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের। সেই সাথে সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইটের অভাবে বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, যা চুরি ও ছিনতাইসহ নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কেন্দ্রীয় কোনো কার্যকর সরবরাহব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, ফলে সাধারণ মানুষ এখনো অনিরাপদ ও অতিরিক্ত আয়রনযুক্ত পানির ওপর নির্ভরশীল। একইসঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দুর্বলতায় নালা-নর্দমাগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল বায়োমেট্রিক হাজিরা বা সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মতো দায়সারা পদক্ষেপে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। পৌর প্রশাসনের এই বিভক্তি দূর করে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা এবং কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। ক্ষতিগ্রস্ত পৌরবাসী দ্রুত এই স্থবিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%