বাগেরহাটে কৃষক দল নেতা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অর্ধবেলা হরতাল পালন

বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নে কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধবেলা হরতাল পালিত হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ডাকে এই কর্মসূচি চলাকালে এলাকাটিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

হরতালের প্রভাবে বারুইপাড়া ইউনিয়নের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। আড়পাড়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হরতালকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এবং সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও বাঁশের বেড়া দিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

গত ৯ জুন ২০২৬ রাতে আড়পাড়া থেকে ফকিরহাট যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল ও ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়ল নিহত হন এবং গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ মোড়লকে প্রথমে ফকিরহাট ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের ছোট ভাই হাফিজুর রহমান মোড়ল বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আসাফুউদ্দৌলা জুয়েল হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, অবিলম্বে মূল অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল ওদুদ অভিযোগ করেছেন যে, প্রকৃত আসামিদের আড়াল করার উদ্দেশ্যে একটি মহল বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হরতালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়রা বা নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%