AdvertisementAdvertisement

সংসদে জীবিত বাবাকে শহীদ দাবির ঘটনায় বিতর্কিত নীলফামারীর এমপি মুনতাকিম

নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমকে ঘিরে জাতীয় সংসদে দেওয়া তার বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের পরিবারের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি দাবি করেন যে, ১৯৭১ সালে তার বাবা ও দাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন এবং তার পরিবারে মোট ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

সৈয়দপুর উপজেলার ধলাগাছ এলাকায় সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই সংসদ সদস্যের বাবা মো. আব্দুল কাদের সৈয়দী এখনো জীবিত রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংসদ সদস্যের হলফনামা ও উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের এক দশক পর জন্মগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তির বাবা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হতে পারেন, তা নিয়ে নেটদুনিয়ায় ট্রল ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নিজের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মুখে আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেছেন, তিনি আক্ষরিক অর্থে তার বাবা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন এমনটি বোঝাতে চাননি। তার ভাষ্যমতে, তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের শহীদ হওয়ার বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন এবং তার বাবা এখনো জীবিত আছেন। তবে তার এই ব্যাখ্যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা কাটছে না, বরং অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্যের কারণে তার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

উল্লেখ্য, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী কোনো সদস্য অশালীন বা নিয়মবহির্ভূত কোনো বক্তব্য দিলে স্পিকার তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে দেওয়া এমন আত্মঘাতী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সংবলিত বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারেক রহমান সরকারে থাকাকালীন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের এমন অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে সচেতন সমাজ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%