পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ঝিনাইগাতীতে জনদুর্ভোগ চরমে

ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই নদীর পানি উপচে ঝিনাইগাতী সদর বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। আকস্মিক এই ঢলে উপজেলার অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে শহর রক্ষা বাঁধের অভাবে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই ঝিনাইগাতী সদর বাজারের সড়ক ও দোকানপাট প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এবারের ঢলে বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল রক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, যার ফলে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর বাঁতকুচি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটারসহ শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে আসা ঢলের তীব্রতা বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন জানিয়েছেন, ঝিনাইগাতী বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সাথে নদীর সংযোগ থাকায় সকালে পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে এখন পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। এদিকে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল জানিয়েছেন, মহারশি নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
