৪ হত্যা ও মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সত্ত্বেও স্বপদে বহাল পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফুল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই ব্রাহ্মণহাতা গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম সেলিম বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলায় পুলিশের ডিএসবিতে কর্মরত থাকলেও তার বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চারজনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসহ মোট ছয়টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে তার সরকারি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সামির, জাকির হোসেন মেম্বার, বখতিয়ার আহমেদ মহসিন, সফিকুল ইসলাম সফু, হানিফ মেম্বার, মহসিন মাস্টার, মো. শামিম, জহিরুল হক ও সজিবসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, আশরাফুল ইসলাম সেলিম শুধুমাত্র একজন পুলিশ সদস্য নন, বরং তিনি এলাকার মাদক ব্যবসার অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দিয়ে আসছেন এবং তার ছত্রছায়ায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার ঘটছে, যার ফলে স্থানীয় যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। তারা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফুল ইসলাম সেলিম মুঠোফোনে জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি দাবি করেন যে, আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং গত ছয় বছর যাবৎ এলাকার সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। উল্টো তিনি স্থানীয় বাসিন্দা হবি মিয়াকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আখ্যায়িত করে তার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এমন বিতর্কিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের মতে, সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে একজন হত্যা মামলার আসামি কীভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।