নোয়াখালীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের ওপর আ.লীগের হামলা

নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষে অন্তত ছয় জন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটা এ সহিংসতায় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে যখন জনসচেতনতা বাড়ছে, ঠিক তখনই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা এলাকাটিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। কর্মসূচি শেষে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ির কাছে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘোষণা দিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হয়ে ছাত্রদলের ওপর চড়াও হন।
উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ ছাত্রদল ও যুবদলের ছয় জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং আরও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। জেলা ছাত্রদল সভাপতি এন বি এস রাসেল অভিযোগ করেছেন যে, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন পরিকল্পিতভাবে জড়ো হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।