সন্দ্বীপে তিন শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক সাজিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি জালিয়াতির মাশুল গুনছে অসহায় পরিবার

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে পুলিশের বয়স জালিয়াতির নির্মম খড়গ নেমে এসেছে তিনটি অসহায় পরিবারের ওপর। মাদকবিরোধী অভিযানের মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক তিন কিশোরকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় আইনি ও মানবিক সংকটে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। আদালত থেকে জামিন পেয়ে শিশুরা ঘরে ফিরলেও তাদের ওপর চেপে বসেছে মিথ্যা মামলার আইনি বোঝা, চড়া সুদে নেওয়া ঋণের পাহাড় এবং সামাজিক অবমাননার তীব্র দহন।
গত ২৫ এপ্রিল সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মিনহাজ, ইমরান ও শাওন নামের তিন কিশোরকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অথচ জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী মিনহাজের বয়স ১৫, ইমরানের বয়স ১৭ এবং শাওনের বয়স মাত্র ১৪ বছর। এজাহারে জেনেশুনে বয়স বাড়িয়ে এ শিশুদের সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে কারাগারে রাখা হয়েছে, যা শিশু আইন ২০১৩-এর চরম লঙ্ঘন।
সবচেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ১৫ বছর বয়সী কিশোর মিনহাজের পরিবার। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবা এবং অন্যের বাড়িতে কাজ করা মায়ের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে পরিবারটিকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। উপার্জনক্ষম ছেলে জেলে থাকায় পরিবারটি যেমন অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছে, তেমনি এখন ঋণের কিস্তি শোধ করা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা সমাজসেবা ও প্রবেশন কর্মকর্তা মোহসীন আলম জানান, দালিলিক প্রমাণ যাচাই করে গত ২১ মে আদালত শিশুদের জামিন মঞ্জুর করে। আইন অনুযায়ী ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক দেখানো আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কোনো শিশুকে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ কারাগারে রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এ ঘটনায় জড়িত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছে। সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন হালদার জানান, কিশোরদের বয়সসংক্রান্ত অসংগতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের প্রমাণ মিললে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সময়ে আইনের শাসনের দাবি যখন জোরালো, তখন পুলিশের এমন জালিয়াতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের বিচার নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জামিনে মুক্তি পেলেও মিথ্যা মামলার আইনি লড়াই এবং আর্থিক দৈন্যদশার যে ঘানি এই পরিবারগুলোকে টানতে হচ্ছে, তার দায়ভার কে নেবে—সেই প্রশ্নই এখন সন্দ্বীপের মানুষের মুখে মুখে।