মুন্সীগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার তেতৈতলা গ্রামে ঝর্না আক্তার নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অচেতন অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাশ ফেলে হাসপাতাল থেকে গা ঢাকা দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।
নিহত ঝর্না আক্তার তেতৈতলা গ্রামের সুজন দেওয়ানের স্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মৃত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছিল। স্থানীয়দের তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঝর্না নিজের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেন। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ড্রিল মেশিন দিয়ে দরজা কেটে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতাল ও পরে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হামদর্দ হাসপাতালের চিকিৎসক আবরাহাম হোসেন ফাহিম জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছিল।
নিহতের বোন তাসলিমা আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঝর্নার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরেই ঝর্নাকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল এবং এ বিষয়ে বুধবার বিকেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। সংসার টিকিয়ে রাখতে মরিয়া ঝর্নাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে পরিবার দাবি করেছে। ঘটনার পর থেকে ঝর্নার স্বামী সুজন দেওয়ানসহ শ্বশুরবাড়ির সকল সদস্য পলাতক রয়েছে এবং তাদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঝর্নার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।