AdvertisementAdvertisement

চান্দিনায় চামড়া বাজারের বেহাল দশা, সিন্ডিকেটের কবলে লোকসানের মুখে মাদ্রাসা ও এতিমখানা

কুমিল্লার চান্দিনা ও দাউদকান্দি উপজেলার সীমান্তবর্তী ইলিয়টগঞ্জ চামড়ার আড়তে এবার কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় ও নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। প্রভাবশালী আড়তদার সিন্ডিকেটের কারসাজি, রহস্যজনক ক্রেতা সংকট এবং অস্বাভাবিক মূল্যহ্রাসের কারণে প্রান্তিক ব্যবসায়ী, মৌসুমি সংগ্রাহক এবং এতিমখানা ও কওমি মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ চরম আর্থিক লোকসানের কবলে পড়েছেন। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে শত শত বিক্রেতা বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন, যা পচে গিয়ে জনপদজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।

সরেজমিনে ইলিয়টগঞ্জ আড়তে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ট্রাক ও পিকআপভর্তি চামড়া নিয়ে বিক্রেতারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ক্রেতার দেখা পাননি। শ্রমিক সংকটের অজুহাতে আড়তদাররা চামড়া খালাসে অস্বীকৃতি জানানোয় অনেক ব্যবসায়ী নিজেরাই নিজেদের চামড়া নামাতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে জানান, রাতভর রাস্তায় কাটিয়ে ভোরে আড়তে এসেও চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। যে দাম হাঁকা হচ্ছে, তা দিয়ে পরিবহন খরচও মেটানো সম্ভব নয় বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে আড়তদাররা পরিকল্পিত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। মাঠপর্যায়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় সংগৃহীত চামড়া আড়তে আনার পর সিন্ডিকেটের কারসাজিতে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে। চান্দিনার ছায়কোট ও মাধাইয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় লবণের অভাবে পড়ে থাকা চামড়াগুলোতে দ্রুত পচন ধরছে। জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী জানান, লাভের আশায় বেশি দামে চামড়া কিনে এখন পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে, যার ফলে চামড়া রাস্তায় ফেলেই বাড়ি ফিরছেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য মাদ্রাসাগুলোতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হলেও অসাধু কিছু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তা চামড়ায় ব্যবহার না করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। যথাযথ সংরক্ষণ না করায় মাঠপর্যায়ের একটি বড় অংশের চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে পরিচালিত এতিমখানা ও কওমি মাদ্রাসাগুলো এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। এক শিক্ষক জানান, লাভের তো দূরের কথা, পরিবহন ভাড়ার লোকসান গুনতে হচ্ছে এবার।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সিন্ডিকেটের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন স্থানীয় আড়তদাররা। তাদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত চাহিদা না থাকা, ট্যানারির বকেয়া অর্থ না পাওয়া এবং সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই এই সংকটের মূল কারণ। তবে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, সরকারিভাবে নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় জাতীয় সম্পদের এই বার্ষিক বিপর্যয় কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব হবে না।

0%
0%
0%
0%