নাগেশ্বরীতে জুলাই বিপ্লবের শহীদ স্মরণে শোকসভা ও বিচার দাবি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও আলোচনা সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে শহীদ পরিবারের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শহীদ রাশেদুল ইসলামের বাবা বাচ্চু মিয়া আবেগজড়িত কণ্ঠে তার সন্তান হারানোর বেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পাঁচ সন্তানের মধ্যে রাশেদুল ছিল পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য। এখনো সন্ধ্যা নামলে সেই ফিরে আসার প্রতীক্ষায় বুক বাঁধে পরিবার, তবে সেই অপেক্ষার আর শেষ নেই। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়াটা তাদের জন্য শোকের চেয়েও বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শহীদ গোলাম রব্বানীর বাবা সাইদুল ইসলাম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেন, তারা কোনো প্রতিশোধের প্রত্যাশা করেন না, বরং একটি সুষ্ঠু বিচার চান যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরিবারকে আর এমন অবর্ণনীয় শোক বহন করতে না হয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল তাদের পরিবারের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লা হিল জামান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা, উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মান্নান মিঞা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহারিয়ার হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারা শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। সভা শেষে নিহত শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%