Advertisement

রাষ্ট্রপতির বেতন ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা এবং সাংবিধানিক ক্ষমতার রূপরেখা

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বেতন-ভাতা এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আর্থিক ও বিশেষ সুবিধাসমূহ নির্ধারিত হয়। বর্তমানে তিনি মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতন পান, যা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত।

বেতনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিশেষ ভাতার আওতাভুক্ত থাকেন, যার মধ্যে রয়েছে আপ্যায়ন ও বিনোদনের জন্য বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থা। এছাড়া আকাশপথে ভ্রমণের জন্য বছরে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে, যা ২০১৬ সালের পূর্বে ১৫ লাখ টাকা ছিল। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে সরকারি গাড়ি ও পরিবহন সুবিধা এবং বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদানের নিয়ম রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সাজসজ্জার যাবতীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। তার চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তার সমুদয় ব্যয়ও সরকার বহন করে। এছাড়া অসহায় ব্যক্তি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় রাষ্ট্রপতি বছরে ২ কোটি টাকার একটি স্বেচ্ছাধীন তহবিল পরিচালনার ক্ষমতা রাখেন।

সাংবিধানিক ক্ষমতার দিক থেকে রাষ্ট্রপতির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণে বাধ্য নন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বিষয়াবলি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে নিয়মিত অবহিত রাখেন এবং রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয়ে মন্ত্রিসভার মতামত চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা উত্থাপন করতে বাধ্য থাকেন।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক এখতিয়ার হলো দণ্ড মার্জনা বা হ্রাস করার ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড রাষ্ট্রপতি মওকুফ বা স্থগিত করতে পারেন। দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতি পূর্ণ সাংবিধানিক দায়মুক্তি ভোগ করেন, যার ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা সম্ভব নয়।

অবশ্য রাষ্ট্রপতির পদটি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা সম্ভব। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়। পাঁচ বছর মেয়াদী এই পদে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতি স্বপদেই বহাল থাকেন।

সম্পর্কিত- রাষ্ট্রপতি
0%
0%
0%
0%