জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন জটিলতায় ঝুলে গেল নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পুনরায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা পুরো প্রক্রিয়াকে নতুন করে পর্যালোচনার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে বিচারকদের জন্য মূল বেতনের সমপরিমাণ বা শতভাগ ভাতার দাবি উত্থাপিত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এক অনির্ধারিত বৈঠকে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব ও বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন স্তরের চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের বৈষম্য বা অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত নিরসনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রস্তাবিত কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবির বিষয়টি সুরাহার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫-এর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। এর আগে ১২ আগস্ট কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী বৈঠকে বিচারকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সরকারি কোষাগার থেকে এর জন্য অতিরিক্ত কত অর্থের সংস্থান প্রয়োজন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে।
এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি বিভিন্ন গ্রেডে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত কাঠামোটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তাভাবনাও রয়েছে, যেখানে প্রথম বছরে মূল বেতন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবির প্রেক্ষিতে উদ্ভূত এই জটিলতা পুরো পে-স্কেল অনুমোদনের গতিকে শ্লথ করে দিয়েছে। অর্থ বিভাগ ও উচ্চপর্যায়ের কমিটির নতুন দফার পর্যালোচনার ওপরই এখন নির্ভর করছে নবম পে-স্কেলের ভাগ্য। সরকারের পক্ষ থেকে তাড়াহুড়ো না করে বরং প্রতিটি খাতের বেতন বৈষম্য দূর করে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি বেতন কাঠামো তৈরির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
