Advertisement

লালকেল্লায় প্রথমবার বন্দে মাতরমের পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনায় স্মরণীয় ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রইল রাজধানী দিল্লির লালকেল্লা। ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে বাজানো হয়েছে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’। গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের স্বাধীনতা দিবসে এর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর শেষ হওয়ার পরেই যথারীতি জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশন করা হয়।

লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভারতর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় ভারতীয় সেনার ১৭২১ ফিল্ড ব্যাটারি ইউনিটের পক্ষ থেকে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০৫ মিলিমিটার লাইট ফিল্ড গান ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সময়েই ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার লালকেল্লার আকাশ প্রদক্ষিণ করে। একটি হেলিকপ্টার জাতীয় পতাকা এবং অন্যটি ‘বন্দে মাতরম’ লেখা পতাকা বহন করে অনুষ্ঠানস্থলে পুষ্পবৃষ্টি করে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসে লালকেল্লায় প্রথমবারের মতো এই জাতীয় গানটি বাজানোর ঘটনাকে ভারতর প্রধানমন্ত্রী ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। এর আগে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনা নিশ্চিত করেছিলেন। ভাষণ শুরু ও শেষে গানটি পরিবেশনের পর জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর রেওয়াজ এবারই প্রথম দেখা গেল।

সম্প্রতি ভারত সরকার ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীতের সমমর্যাদায় আইনি সুরক্ষা প্রদান করেছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতিক্রমে ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার’ আইনের সংশোধনী কার্যকর হওয়ার ফলে এখন থেকে জাতীয় গানের অবমাননা বা ইচ্ছাকৃতভাবে এর পরিবেশনায় বাধা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অপরাধের মাত্রানুসারে দোষীর জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে এই নতুন আইনে।

বিজ্ঞাপন

নিজের ভাষণে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু উল্লেখ করেন, স্বদেশি আন্দোলনের অগ্নিযুগে ‘বন্দে মাতরম’ দেশবাসীকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে অনন্য ভূমিকা রেখেছিল। এই গান কেবল সুরের মূর্ছনা নয়, বরং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় গানের এই মর্যাদাপূর্ণ উপস্থাপন আগামী দিনগুলোতে এক নতুন নজির হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%