Advertisement

গলের অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে চ্যালেঞ্জের মুখে ভারত ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তুত

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানে থাকা ভারত এখন লঙ্কান দ্বীপপুঞ্জে নতুন শুরুর প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠেও নিজেদের দুর্ভেদ্য অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া ভারতের জন্য গল টেস্টটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় মঞ্চ। সফরকারী দলের জন্য গলের ভেন্যুটি মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলার এক নতুন সুযোগ হিসেবেই দেখা দিচ্ছে। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র গরম ও অসহ্য আর্দ্রতা, যা বৃহস্পতিবারের অনুশীলনেই বেশ ভালোভাবেই টের পেয়েছেন ক্রিকেটাররা।

ভারতের বোলিং কোচ মরনে মর্কেল অবশ্য দলের দক্ষতা ও পরিকল্পনার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, গলের পরিবেশে টিকে থাকতে হলে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। বিশেষ করে বলের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগের কথা গোপন রাখেননি তিনি। কুকাবুরা বলের সিম দ্রুতই সমতল হয়ে যায় এবং ২০ থেকে ৩৫ ওভারের মধ্যেই বল নরম হয়ে পড়ে। ফলে নতুন বল হাতে পাওয়ার সীমিত সুযোগটুকু কাজে লাগাতে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের অত্যন্ত চতুর হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছর ভারতের এটি মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। এর আগে জুন মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আড়াই দিনের সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ে জয় পেলেও, দীর্ঘসময় ধরে চাপ বজায় রাখার কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়নি ভারতকে। অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গত সিরিজে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার দৈন্যদশা স্পষ্ট ছিল। গুয়াহাটি টেস্টে ভারতের ইনিংস দুটি শেষ হয়েছিল যথাক্রমে ৮৩.৫ ও ৬৩.৫ ওভারে, যেখানে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের প্রথম ইনিংসে একাই খেলেছিল ১৫১.১ ওভার। এই ঘাটতি পূরণে এবার ব্যাটসম্যানদের লম্বা সময় উইকেটে টিকে থাকার দিকেই বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

বিজ্ঞাপন

গলের পিচে রিভার্স সুইং একটি বড় অস্ত্র হতে পারে, তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং মাঠের ভেজা অবস্থার কারণে বল দ্রুত পুরোনো হওয়ার প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বোলারদের ছোট স্পেলে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার তাগিদ দিয়েছেন মর্কেল। এক প্রান্ত থেকে পেসারদের চাপ বজায় রেখে অন্য প্রান্ত থেকে স্পিনারদের ব্যবহার করার কৌশলই ভারতকে এগিয়ে রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

স্পিন আক্রমণে অভিজ্ঞ রবীন্দ্র জাদেজা ও কুলদীপ যাদবের জায়গা নিশ্চিত হলেও, তৃতীয় স্পিনার নির্বাচন নিয়ে কিছুটা রহস্য রয়ে গেছে। অভিষেক টেস্টে ৬ উইকেট পাওয়া মানব সুথার এবং প্রথমবার ডাক পাওয়া ডানহাতি অফ-স্পিনার সারাংশ জৈনের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে ভারতের সামনে। তবে মর্কেল আশাবাদী, সুভমান গিলের নেতৃত্বে এই স্পিন ত্রয়ী কুড়িটি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হবে। শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে ভারতের লক্ষ্য কেবল জয় নয়, বরং হারানো ছন্দ ফিরে পেয়ে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করা।

0%
0%
0%
0%