Advertisement

দানিয়ুব নদীতে নজিরবিহীন জলস্বল্পতা, রোমানিয়ার একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন স্থগিত

দানিয়ুব নদীর পানিস্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় রোমানিয়া তাদের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির জাতীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা নিউক্লিয়ারেরেক্টা জানিয়েছে, চুল্লি শীতল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাব দেখা দেওয়ায় চেরনাভোদা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরটি নিয়ন্ত্রণাধীন পদ্ধতিতে বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে গত মাসে কেন্দ্রটির প্রথম রিয়্যাক্টরটিও বন্ধ করতে হয়েছিল।

ইউরোপীয় জলবায়ু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের তথ্যমতে, ভয়াবহ খরার কবলে পড়ে মহাদেশটির বিশাল অংশ জুড়ে পানির প্রবাহ স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে দানিয়ুব নদীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় পানির প্রবাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালক রোমিও উরজান এএফপিকে জানিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রটির পুনরায় চালুর কোনো সম্ভাবনা নেই।

বিজ্ঞাপন

চেরনাভোদা কেন্দ্রটি রোমানিয়ার মোট বিদ্যুতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ উৎপাদন করে। এই বিপর্যয় এড়াতে কর্তৃপক্ষ দানিয়ুবের পানিপ্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য ২০ লক্ষ ইউরো বা প্রায় ২২ লক্ষ ডলারের বেশি বাজেট বরাদ্দ করেছিল। নদীর তলদেশে থাকা বিশাল পাথর অপসারণ এবং পানিপ্রবাহের গতিপথ সচল রাখতে পাথর ভর্তি চারটি বার্জ ডুবিয়ে দেওয়ার মতো জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রটি সচল রাখা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাতাস থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হলে শেষ পর্যন্ত বড় শিল্পকারখানাগুলোতে সন্ধ্যার সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রতিবেশী হাঙ্গেরি তাদের পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়া থেকে কোনোমতে রক্ষা করছে। তবে দানিয়ুবের পানিস্তর আরও কমার আশঙ্কায় দেশটির সরকার নদীর তীরবর্তী এলাকায় পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে একটি ডুবন্ত দেওয়াল নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগয়ার জানিয়েছেন, পাকস কেন্দ্রের পানির স্তর বজায় রাখতে ৮০ মিটার দীর্ঘ দুটি বার্জ নদীর পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পাকস কেন্দ্রটি হাঙ্গেরির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করে, যা গত মাসের শেষ দিক থেকেই আংশিক বন্ধ রয়েছে। ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম এই নদীটির নাব্যতা সংকট কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং জার্মানি থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ২ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌপথের পণ্য পরিবহনেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%