কোচিং ফি বকেয়া থাকায় নারায়ণগঞ্জে ২১ শিক্ষার্থীকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে হেনস্তা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার আল বালাগ স্কুলে কোচিংয়ের বকেয়া ফি পরিশোধ না করায় ২১ শিক্ষার্থীকে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রীকে এভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এমন অমানবিক আচরণে কয়েকজন শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, গত সোমবার বকেয়া কোচিং ফি আদায়ের নামে তাদের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেনের কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা সে সময় পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথা জানিয়ে টাকা পরিশোধের জন্য সময় চেয়েছিল। কিন্তু এরপরও তাদের প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা চরম অস্বস্তিবোধ ও মানসিক চাপে পড়েছিল, যা পরে পুরো এলাকায় জানাজানি হয়।
একজন অভিভাবক আক্ষেপ করে জানান, বকেয়া ফি পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তার মেয়েকে সবার সামনে এভাবে অপমান ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মেয়েটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক আচরণ করছে না। ভুক্তভোগী অন্য অভিভাবকদের দাবি, আর্থিক সমস্যা থাকলে তা অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করা উচিত, কিন্তু কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এর দায় চাপিয়ে মানসিকভাবে নাজেহাল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি কোচিং ফি আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কক্ষে ডেকেছিলেন। সিদ্ধিরগঞ্জের অধিকাংশ স্কুলেই কোচিং বাণিজ্য চলছে—এমন যুক্তি দিয়ে তিনি নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে বিদ্যালয়ের কোচিং কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের মুখে ফেলা হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
