বন্ধ পাটকলে প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকোর ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগে ১৫ হাজার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ

দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর পড়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল এবং হ্যামকো গ্রুপ। খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলস এবং সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস ইজারা পাওয়ার মাধ্যমে এই শিল্পগ্রুপগুলো ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও শিল্পায়নের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলোতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের বা বিজেএমসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ইজারা প্রক্রিয়ার আওতায় খুলনার প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলটি ৩০ বছরের জন্য ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আবদুল্লাহ ব্যাটারি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড। অন্যদিকে, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে স্টার জুট মিলস ও জাতীয় জুট মিলস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এই লিজ চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিজেএমসির নথিপত্র অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত লোকসানের মুখে পড়ে ২০২০ সালের জুলাই মাসে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকেই কারখানাগুলোর অব্যবহৃত জমি ও অবকাঠামোকে কাজে লাগাতে বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত মোট ১৪টি পাটকল ইজারা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, স্টার জুট মিলস ও জাতীয় জুট মিলস ইজারা নিয়ে তারা প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। স্টার জুট মিলসের ৪৬ একর জমিতে উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য, আসবাব এবং মিডিয়াম ডেনসিটি ফাইবার বা এমডিএফ বোর্ড উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলের ৩৮ একর জমিতে তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প, জুতা ও খেলনা উৎপাদনের পাশাপাশি প্যাকেজিং ও সংরক্ষণের সুবিধা তৈরি করা হবে, যা থেকে বছরে ৬০০ কোটি টাকার লেনদেন প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
হ্যামকো গ্রুপ প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের ৫০ একর জমিতে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছে। সেখানে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ বিনিয়োগে পাটের বিশেষায়িত ম্যাট্রেস তৈরির কারখানা ও লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এই প্রকল্প থেকে। আগামী এক বছরের মধ্যেই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী হ্যামকো কর্তৃপক্ষ।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানিয়েছেন, কারখানাগুলোতে উৎপাদিত পণ্য অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারেও রপ্তানি করা হবে। নতুন জমি কিনে কারখানা তৈরির দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে রেডি অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে, যা সময়ের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মূলধনী ব্যয় সাশ্রয় করছে। এর আগে রাজশাহী টেক্সটাইল মিল ও রাজশাহী জুট মিল চালু করার মাধ্যমেও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে বর্তমানে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
