সুদানে জাতীয় সংলাপের পথ তৈরিতে আল-বুরহানের গোপনে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধ অবসানে একগুচ্ছ গোপন আলোচনা শুরু করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে একটি সর্বজনীন সংলাপের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি এই গোপন বৈঠকগুলো করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর লড়াই নিরসনে এটি এক নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অভিযোগগুলো প্রত্যাহার এবং সংলাপের প্রস্তুতিমূলক কমিটি গঠনের প্রস্তাব। সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস বা এসএএফ এবং আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ-এর মধ্যকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, অধিকাংশ পক্ষই এখন বৈরী মিডিয়া প্রচারণা বন্ধে একমত হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই সংলাপে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদকের নেতৃত্বাধীন সমুদ জোটের সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকা যুদ্ধাপরাধ ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাগুলো স্থগিত করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে সমুদ জোট বারবার তাদের বিরুদ্ধে আনা আরএসএফ-কে সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। স্বতন্ত্র ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত একটি প্রস্তুতিমূলক কমিটি নির্ধারণ করবে সংলাপের আলোচ্যসূচি এবং অংশগ্রহণকারীদের তালিকা।
এদিকে ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির উপদেষ্টা হাতেম আল-সির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, খরতুম বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত। আল-বুরহান ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্লক, সুফি নেতা, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। তবে এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মতভেদ এখনো স্পষ্ট।
জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত কুইন্টেট গ্রুপও সুদানে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৯ জুলাই ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় তাদের আলোচনার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সমুদ জোটের নেতা বাবিকার ফয়সাল অভিযোগ করেছেন, কুইন্টেট গ্রুপ নিরপেক্ষতা হারিয়েছে এবং তারা এমন সব পক্ষকে সংলাপে ডাকছে যাদের রাজনৈতিক মাঠে কোনো ভিত্তি নেই।
অপরদিকে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের আমলের দল ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি-কে বাদ দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সেনাপ্রধান আল-বুরহান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংলাপে এনসিপি বা আরএসএফ সংশ্লিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর জায়গা হবে না। তবে এনসিপি নেতা হামিদ মুমতাজ এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপর্যয়কর ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, কোনো একটি পক্ষকে বাদ দিয়ে আলোচনার আয়োজন করলে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য, যা সুদানের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
