চার দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গণনার অপেক্ষায় কঙ্গোর জনপদ

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে দীর্ঘ ৪২ বছরের দীর্ঘসূত্রতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে নতুন করে আদমশুমারি শুরু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী এই জনশুমারি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে শুধু জনসংখ্যা গণনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন দেশটির কোটি কোটি নাগরিক।
উত্তর-পূর্ব কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া শহরের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী এরিতিয়ের রামাজানির মতো লক্ষাধিক মানুষ এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নথিতে নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। জন্মের পর থেকে জাতীয় শুমারিতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় নাগরিকত্বের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণপত্র ছাড়াই জীবন কাটাতে হয়েছে তাদের। রামাজানির মতে, এই নিবন্ধন কেবল একটি সংখ্যাতত্ত্ব নয়, এটি তার রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রথম ধাপ।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে কঙ্গোর জনসংখ্যা প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৩.২ শতাংশ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় পরিচয়পত্রের অভাব থাকায় ভোটার আইডি কার্ডই অনেক কঙ্গোলিজ নাগরিকের একমাত্র পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিসটিকস জানিয়েছে, এবারের শুমারি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, যেখানে তথ্য সংগ্রহের জন্য স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ব্যবহার করা হবে।
শুমারি কার্যক্রম শুরুর আগে ডিজিটাল ম্যাপিং বা মানচিত্র তৈরির কাজ হাতে নিয়েছে দেশটির পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। তবে ২৩ লাখ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এই বিশাল ভূখণ্ডের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাস্তুচ্যুত মানুষের ব্যাপক স্থানান্তর এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণহীন অনেক এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা আয়োজকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই শুমারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে মৃদু বিতর্ক। আগামী ২০২৮ সালে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে জনসংখ্যা গণনাকে ঘিরে অনেক বিরোধী নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কিনশাসাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবুতেলি সতর্ক করে জানিয়েছে, সাংবিধানিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে এই শুমারির ফলাফল সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
তবে সরকারি মহল থেকে রাজনৈতিক অভিপ্রায় থাকার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক তথ্যভাণ্ডার থাকলে স্কুল, হাসপাতাল ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো জনসেবামূলক কাজে স্বচ্ছতা ও যথার্থতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। সাধারণ নাগরিকদের কাছে এই উদ্যোগটি মূলত তাদের দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া নাগরিক মর্যাদা ফিরে পাওয়ার এক বড় সুযোগ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
