আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে আর্মেনিয়ার ধর্মপ্রধানের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

আর্মেনিয়ার প্রাচীন অ্যাপোস্টলিক চার্চের প্রধান ক্যাথলিকস কারেকিন দ্বিতীয় এবং ছয়জন উচ্চপদস্থ ধর্মযাজকের বিরুদ্ধে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। দেশটির একটি দেওয়ানি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একজন বহিষ্কৃত বিশপকে পুনর্বহাল না করার অভিযোগে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে। আগামী শুক্রবার দেশটির আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ভাগারশাপাতের আরমাভির আঞ্চলিক আদালতে এই বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রত্যেক বিবাদী সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
গত জানুয়ারি মাসে বিশপ গেভোর্গ সারোয়ানকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চার্চ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত এই বিশপ প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান এবং বিশপ সারোয়ান—উভয়েই ক্যাথলিকস কারেকিন দ্বিতীয়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন। কারেকিন বরাবরই প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ানের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী এর আগে চার্চের প্রধানের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুললেও তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তবে ক্যাথলিকস এবং চার্চ কর্তৃপক্ষ যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান এবং চার্চের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নাগরনো-কারাবাখ সংঘাত মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থতা এবং প্রতিবেশী আজারবাইজানের কাছে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন চার্চের নেতারা। ২০২৩ সালে আজারবাইজান নাগরনো-কারাবাখের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পর এর জন্য প্রধানমন্ত্রীকেই দায়ী করেন ক্যাথলিকস কারেকিন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাশিনিয়ান চার্চ প্রধানের ব্যক্তিগত নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেন।
দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, ক্যাথলিকস কারেকিনের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকারের সমালোচকদের দমনের একটি অংশ হিসেবেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। প্রোটেকশন অব রাইটস উইদাউট বর্ডারস-এর আইনজীবী আনা মেলিকিয়ান এই ঘটনাকে চার্চের ওপর নির্বাহী বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই মামলার মধ্য দিয়ে আরমেনিয়াতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
