ওড়িশায় অগ্নি-৪ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ ভারতের কৌশলগত সক্ষমতা আরও সুসংহত

ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুক্ত হলো আরও এক মাইলফলক। বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে মধ্য-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৪। ভারতের স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটি ক্ষেপণাস্ত্রটির সব ধরনের অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সাফল্যের সঙ্গে যাচাই করেছে বলে জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি দুই ধাপের একটি ব্যালিস্টিক অস্ত্র। এটি পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত ভারতের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও সংহত করার উদ্দেশ্যে নকশা করা হয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর বড় একটি অংশকে ভারতের নিখুঁত নিশানার আওতায় নিয়ে আসে।
২০০৭ সালে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে। ২০১১ সালে উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম, শক্তিশালী মোটর এবং আধুনিক থ্রাস্ট ভেক্টর কন্ট্রোল প্রযুক্তির সমন্বয়ে এটি অগ্নি-৪ নামে পূর্ণতা পায়। প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ ও ১৭ টন ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ১ হাজার কেজি ওজনের ওয়ারহেড নিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিক থেকে অগ্নি-৪ বর্তমানে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এতে রিং লেজার জাইরোস্কোপ-ভিত্তিক ইনর্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও ১০০ মিটারেরও কম বিচ্যুতিতে আঘাত হানার নিশ্চয়তা দেয়। এছাড়া এর দ্বিতীয় ধাপে ব্যবহৃত কার্বন-ফাইবার কম্পোজিট কাঠামো ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ওজনে হালকা ও অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে।
২০১০ সালে প্রথম পরীক্ষার পর থেকে অগ্নি-৪ বহুবার সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে রোড-মোবাইল লঞ্চার থেকে উৎক্ষেপণের পর এটি ভারত মহাসাগরে নির্ধারিত লক্ষ্যে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছিল। এরপর ২০১৫, ২০১৭ ও ২০১৮ সালেও একাধিক সফল পরীক্ষা ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সক্ষমতাকে বারবার প্রমাণ করেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সফল উৎক্ষেপণ অগ্নি-৪-এর নির্ভরযোগ্যতাকে আরও জোরালো করল। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অপ্রতিদ্বন্দ্বী অগ্রগতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
