মুর্শিদাবাদে মসজিদে লাউডস্পিকার সরানো নিয়ে উত্তাল রাজনীতি, অমিত শাহের হস্তক্ষেপ চাইলেন তিন সাংসদ

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে মসজিদ থেকে আজানের লাউডস্পিকার অপসারণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তীব্র বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিন সংসদ সদস্য। বহরমপুরের সাংসদ ও প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান যৌথভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া এই তিন জনপ্রতিনিধি পুলিশের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপকে বৈষম্যমূলক ও সংবেদনশীলতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
স্মারকলিপিতে সাংসদরা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোরতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত না হানার দিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পুলিশ যেভাবে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খুলে ফেলছে, তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপের শামিল। তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোনো বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে না। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মন্দির, মসজিদ ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্যই সমান নিয়ম বলবৎ করা হয়েছে। নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রান্ত হলে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দিলেও এই তিন সাংসদ তাদের নির্বাচনী এলাকার সংখ্যালঘু ভোটারদের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন মনোভাব প্রদর্শন করছেন। তারা এনডিএ জোটের বিভিন্ন বৈঠক থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বার্তা দিয়েছেন যে, মুসলিম সমাজের স্বার্থবিরোধী কোনো নীতি বা পদক্ষেপে তারা সমর্থন দেবেন না। ফলে এই বিতর্কটি কেবল আইনি নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও বেশ গুরুত্ব লাভ করেছে।
লাউডস্পিকার বিতর্কের পাশাপাশি স্মারকলিপিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই তিন সাংসদ। তাদের অভিযোগ, ভোটার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘকাল ধরে অমীমাংসিত মামলার জট থাকায় অসংখ্য প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পাসপোর্ট যাচাই, জমি রেজিস্ট্রেশন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে চালানো পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় শুধু মুর্শিদাবাদ থেকেই ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা রাজ্যের সর্বোচ্চ। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাংসদরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
