রাজার বিধ্বংসী ইনিংসে লন্ডনের বিদায় নিশ্চিত করল এমআই লন্ডন

লর্ডসে বৃহস্পতিবারের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে লন্ডনের দর্শকদের বিষাদ উপহার দিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করল লন্ডন স্পিরিট। জিম্বাবুইয়ান অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে চার উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে এমআই লন্ডন। এই পরাজয়ের ফলে ২০২৬ সালের মেনস হান্ড্রেড থেকে সবার আগে ছিটকে পড়ার হতাশায় ডুবল স্পিরিট। ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও রাজার ১৮ বলে ৪১ রানের টর্নেডো ইনিংস ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লন্ডন স্পিরিট দলীয় সংগ্রহ বড় করার চেষ্টা চালিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াসের ২৮ বলে ৫২ রানের ইনিংসটি ছিল দারুণ কার্যকরী। তবে উইল জ্যাকসের অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে তার বিদায়ে ছন্দপতন ঘটে স্পিরিটের। ডেভিড উইলির ১৮ বলে ৩১ রানের ক্যামিও এবং জেমি ওভারটনের শেষের ঝড়ে স্বাগতিকরা ১০০ বলে ৫ উইকেটে ১৬০ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। নাথান সউটার বল হাতে দুই উইকেট তুলে নিয়ে স্পিরিটকে বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে এমআই লন্ডনের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। ম্যাসন ক্রেনের দুর্দান্ত বোলিং তোপে টপ অর্ডার কিছুটা ধুঁকছিল। তবে নিকোলাস পুরান ও স্যাম কারানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। ডেভিড উইলির নিখুঁত থ্রোয়ে পুরান আউট হলে যখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পিরিটের দিকে ঝুঁকছিল, ঠিক তখনই উইকেটে আসেন রাজা। নেমেই আক্রমণাত্মক মেজাজে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। তার সাত বলের মোকাবিলায় তিনটি বিশাল ছক্কা ম্যাচের ভাগ্য এমআই লন্ডনের দিকে হেলে দেয়।
ম্যাচের শেষ দিকে সমীকরণ ছিল ২০ বলে ২৯ রান। স্যাম কারান এবং শেরফেন রাদারফোর্ড দ্রুত আউট হয়ে কিছুটা শঙ্কা বাড়ালেও জেমস কোলসের এক ওভারে ১৭ রান আদায় করে খেলা অনেকটাই নিজেদের করে নেয় এমআই লন্ডন। শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতে রাজা ফিরলেও অলি পোপ ঠান্ডা মাথায় বাকি পথটুকু পাড়ি দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল এমআই লন্ডন। পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে আসর থেকে বিদায় নেওয়া লন্ডন স্পিরিট ৫ উইকেটে ১৬০ রান তুলেও রাজার ঝোড়ো ইনিংসের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হয়।
