AdvertisementAdvertisement

মোজাম্বিকে ভয়াবহ বন্যার পর তীব্র খাদ্যসংকট ও আকাশচুম্বী মূল্যের কবলে কৃষকরা

মোজাম্বিকের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজার শাই-শাই এলাকার বাসিন্দা জোয়াকিম পিন্টো এখন এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা কেড়ে নিয়েছে তার উপার্জনের শেষ সম্বল এবং ফসলি জমি। বন্যার পানি সরে গেলেও পিন্টোর মতো হাজার হাজার কৃষক পরিবার এখন তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তা ও আকাশচুম্বী মূল্যের কবলে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আল-জাজিরার কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে ৫০ বছর বয়সী পিন্টো আক্ষেপ করে বলেন, বন্যায় জীবন না বাঁচলে তো ক্ষুধা মেটানোর প্রশ্নই আসে না।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই বন্যায় দেশটির প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪০৫ হেক্টর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা প্রায় ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৮৩ জন কৃষকের জীবিকাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। গাজা, মাপুতো, ইনহামবানে, সোফালা ও জাম্বেজিয়া প্রদেশের বিশাল এলাকা প্লাবিত হওয়ার ফলে গ্রামীণ জনপদে থাকা কৃষিনির্ভর নিরাপত্তা বেষ্টনী পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বন্যা শুধু ফসলই নষ্ট করেনি, ধ্বংস করেছে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও গবাদি পশু, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্যমতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাজারে পণ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি ও স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ডব্লিউএফপির মুখপাত্র আনা মাটো ওমব্রে জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্য মজুদ ধ্বংস হওয়ায় এবং অনেক বাজার অকার্যকর হয়ে পড়ায় নিত্যপণ্যের সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী শুওয়া অ্যানোলিস জানান, পরিবহন খরচ ও জ্বালানি মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চাল ও আটার মতো পণ্যের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য ব্যবস্থা বিষয়ক অধ্যাপক তাফাদজোয়ানাশে মাভাউধি মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২৪-২৫ সালের ভয়াবহ খরার রেশ না কাটতেই এই বন্যা সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বারবার ঘটা এই দুর্যোগের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়টুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মোজাম্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের চরম পরিণতির শিকার হচ্ছে, যদিও বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে দেশটির অবদান নগণ্য। বারবার আঘাত হানা বন্যা ও খরার কবলে পড়ে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন সরকারি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়াই টিকে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে, যেখানে প্রতিটি নতুন দুর্যোগ যেন তাদের অবশিষ্ট সম্বলটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। পিন্টোর মতো প্রান্তিক মানুষের কাছে বন্যার পানি সরে যাওয়া মানেই দুর্যোগের শেষ নয়, বরং এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের শুরু মাত্র।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%