ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব কঙ্গনা রানাউত রাহুলের ভূমিকা নিয়ে তুললেন প্রশ্ন

বলিউডের তেজস্বী অভিনেত্রী এবং বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত আবারও শিরোনামে উঠে এসেছেন তার তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে। তবে এবার কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে নয়, বরং ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে উত্তাল পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নীরবতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। কঙ্গনার দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনের কঠিন লড়াইয়ের সময় রাহুল গান্ধীর মতো বিরোধী নেতাদের পাশে থাকার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সেখানে তাদের দেখা মিলছে না।
সংবাদসংস্থার সাথে আলাপচারিতায় কঙ্গনা কংগ্রেসের দ্বিচারিতার দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, দিল্লির সংসদীয় জটিলতায় রাহুল গান্ধী যতটা তৎপর ছিলেন, ঝাড়খণ্ডের হাজারো তরুণের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন তিনি কেন সেই ময়দানে নেই? কঙ্গনার মতে, যখনই কোনো বিষয়ে উস্কানি দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখনই রাহুল গান্ধী সবার আগে উপস্থিত হন, কিন্তু প্রকৃত সংকটে তিনি বরাবরের মতোই অনুপস্থিত।
ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল। রাজ্যের ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন। সরকারের গঠিত সিআইডি তদন্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবল অনাস্থা রয়েছে। তাদের দাবি, এটি কেবল দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার এক কৌশল। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই এবং ইডির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
রাজনীতির উত্তাপের বাইরেও কঙ্গনা রানাউত মুখ খুলেছেন সাম্প্রতিক এক প্রযুক্তিগত বিতর্ক নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুছে ফেলার ঘটনায় মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এই অভিনেত্রী। কঙ্গনা স্পষ্ট করেছেন যে, ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তার মতে, জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর আরও বেশি সতর্ক এবং দায়িত্বশীল হওয়া এখন সময়ের দাবি।
