ইউপিআই লেনদেনে মাসুল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যহত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কেন্দ্র

ভারতের ডিজিটাল লেনদেনের প্রধান মাধ্যম ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই পরিষেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’ সংশোধনের একটি প্রস্তাব পেশ করেছেন। এই আইন পাস হলে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই লেনদেনের ওপর ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা এমডিআর নামক প্রসেসিং ফি আরোপ করার আইনি সুযোগ তৈরি হবে।
ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই নীতি পরিবর্তনটি এখনও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা আগাম কোনো মন্তব্য করা হবে তাড়াহুড়ো হবে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয় কাউকে না কাউকে বহন করতেই হয়।
প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী, দুই হাজার টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৩ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর ধার্য করার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত যেসব ব্যবসায়ীর বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি, তাদের ওপরই এই ফি চাপানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। ছোট দোকান বা খুচরো বিক্রেতাদের ওপর কোনো বাড়তি চাপ যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
পেমেন্ট সংস্থাগুলোর দাবি, বিনামূল্যে সেবা প্রদানের ফলে নতুন প্রযুক্তি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। তথ্যমতে, দুই হাজার টাকার বেশি মূল্যের লেনদেন মোট ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যার বিচারে মাত্র ৪ শতাংশ হলেও, টাকার অংকের হিসাবে এটি মোট লেনদেনের প্রায় ৬৭ শতাংশ। এই অংশে ফি আরোপ করা হলে পেমেন্ট সংস্থাগুলোর বার্ষিক আয় ৫ হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই সেবা আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। গভর্নর আরও জানান, ডিজিটাল পেমেন্টকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও সুরক্ষিত রাখা রিজার্ভ ব্যাংকের প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমানে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটায় ব্যবসায়ীদের ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত ফি দিতে হলেও, ইউপিআই এতদিন এই খরচের আওতামুক্ত ছিল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইউপিআই ব্যবহারে বাড়তি কোনো খরচের চাপ আপাতত থাকছে না।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
