গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরিতে শক্তিশালী অগ্নুৎপাত জরুরি সতর্কতা জারি

মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় অবস্থিত অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ‘ফুয়েগো’ পুনরায় উদ্গিরণ শুরু করায় দেশজুড়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। গুয়াতেমালার ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলোজির পক্ষ থেকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, আগ্নেয়গিরিটি ক্রমেই অধিকতর বিস্ফোরক পর্যায়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে এর আশপাশের দুটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘কনরেড’-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির ভয়াবহতার পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে কমলা রঙের ‘বিপৎসংকেত’ বা অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবার প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ৩ হাজার ৭৬৩ মিটার উচ্চতার এই আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে গলিত লাভা নির্গত হচ্ছে এবং ছাই ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে প্রায় ৬ কিলোমিটার উচ্চতায় ছড়িয়ে পড়েছে।
দুর্যোগ সংস্থাটির মুখপাত্র ভ্যালেরিয়া উরিজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় সাধারণ মানুষকে যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, যদি কোনো এলাকায় এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কিংবা পরিস্থিতি জীবনঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের যেন কোনো বিলম্ব ছাড়াই নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেন।
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ের ওপর অবস্থিত হওয়ায় গুয়াতেমালায় প্রায়শই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির ধ্বংসলীলা নতুন নয়; বিগত কয়েক বছরে বারবার এই আগ্নেয়গিরির কারণে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। গত বছর অগ্ন্যুৎপাতের সময় ৫০০-এর বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এছাড়া ২০২৩ সালের অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। তবে ২০১৮ সালের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী; সে সময় উত্তপ্ত লাভা ও ছাইয়ের নিচে সান মিগুয়েল লস লোটেস এবং এল রোডিও গ্রাম দুটি পুরোপুরি তলিয়ে গিয়েছিল। সেই বিপর্যয়ে ১৯৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও আরও ২৩৪ জন নিখোঁজ ছিলেন, যাদের মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
