সীতাকুণ্ডে অরক্ষিত সওজ কার্যালয় ও কোটি টাকার সরকারি সম্পদ ঝুঁকিতে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জনবল সংকটের চরম অভাবেই সওজের এই কার্যালয় ও রেলস্টেশন সংলগ্ন পুরোনো ডাকবাংলো এলাকা এখন অভিভাবকহীন। নিরাপত্তাকর্মী বা নৈশপ্রহরী না থাকায় মূল্যবান সরকারি যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের চারপাশের সীমানাপ্রাচীর নিচু হওয়ায় যেকোনো সময় যে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। পর্যাপ্ত আলোক ব্যবস্থার অভাবে সন্ধ্যার পর পুরো এলাকাটি নির্জন হয়ে পড়ে, যার সুযোগ নিয়ে বহিরাগতদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুজন চন্দ্র দাসকেই অফিস খোলার দায়িত্ব থেকে শুরু করে পুরো স্থাপনা দেখাশোনার দায়ভার বহন করতে হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড কার্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও স্থবিরতা স্পষ্ট। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিপন চাকমা অফিসে উপস্থিত হলেও দাপ্তরিক তেমন কোনো কার্যক্রম থাকে না। এছাড়া, এক সময়ের সওজ কর্মকর্তাদের বিশ্রামস্থল ও জীর্ণ হয়ে পড়া ডাকবাংলোটি এখন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, যদিও সেখানে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
সরকারি এই সম্পদের পুকুর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই এবং উৎপাদিত মাছের বণ্টন প্রক্রিয়াও অনেকটা অস্বচ্ছ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
জনগণের অর্থে পরিচালিত এই সরকারি সম্পদ দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারি সম্পত্তির সঠিক সুরক্ষার লক্ষ্যে অবিলম্বে নৈশপ্রহরী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং ডাকবাংলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে সরকারি পুকুর ও আবাসনসহ অন্যান্য সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে।
