শরীয়তপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ইভটিজিং: প্রশাসনের নীরবতা কেন?

লেখক: আল আমিন
প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সামনে দিনদুপুরে চলছে ইভটিজিং। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করা ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত সহ্য করতে হচ্ছে কটূক্তি, অশ্লীল মন্তব্য, পথরোধ এবং মানসিক নির্যাতন। অথচ এই চিত্র যেন দেখার কেউ নেই। প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় বখাটেরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরতির সময় এবং ছুটির আগে থেকেই কিছু যুবক স্কুল-কলেজের গেট ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়। ছাত্রীদের দেখামাত্র শুরু হয় বিভিন্ন অশোভন মন্তব্য—“আমি সিঙ্গেল”, “প্রেম করবা নাকি?”, “এই বান্ধবী”, “আহা, দেখ কে যায়” ইত্যাদি। অনেক সময় তারা মোবাইল নম্বর চায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে সাড়া না দিলে পথ আটকে দাঁড়ানো, অনুসরণ করা কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনা প্রকাশ্যেই ঘটছে। রাস্তার পাশে দোকানদার, পথচারী, অভিভাবক কিংবা স্থানীয় লোকজন অনেক সময় এসব দেখলেও প্রতিবাদ করেন না। ফলে অপরাধীরা ধরে নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলবে না। এই নীরবতাই ইভটিজারদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

ইভটিজিংকে অনেকেই তুচ্ছ ঘটনা হিসেবে দেখার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ। একজন ছাত্রীর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা, তাকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগানো এবং শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়ার জন্য ইভটিজিংই যথেষ্ট। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইভটিজিংয়ের কারণে শিক্ষার্থী আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। তাই বিষয়টিকে কখনোই সাধারণ দুষ্টুমি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন হচ্ছে, শরীয়তপুরের প্রশাসন কোথায়? স্কুল-কলেজের ছুটির সময়গুলোতে নিয়মিত পুলিশ টহল কেন দেখা যায় না? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বখাটেদের আড্ডা ভাঙতে কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হলে এবং কয়েকজন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেলে পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হতে পারে।

একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয়, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। শুধু ক্লাসরুমে শিক্ষা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব।

শরীয়তপুর একটি শান্তিপ্রিয় জেলা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সেই পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আজ যারা ইভটিজিং করছে, কাল তারাই আরও বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সমস্যা ছোট থাকতে থাকতেই কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

শরীয়তপুরের প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের কাছে প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে চলবে? একজন ছাত্রী কি নিরাপদে স্কুল বা কলেজে যাওয়া-আসা করতে পারবে না? শিক্ষাঙ্গনের সামনে বখাটেদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তাদের সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার। সেই অধিকার রক্ষায় শরীয়তপুরে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে এখনই জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

লেখক: আল আমিন - প্রকাশক ও সম্পাদক,সে অলওয়েজ ট্রুথ
টপিক: ইভটিজিং
Google News গুগল নিউজে ফলো করুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হোন
0%
0%
0%
0%