ওয়াশিংটন ও তেহরানের দ্বিমুখী বার্তার মাঝেই রেকর্ড উচ্চতার দ্বারপ্রান্তে মার্কিন শেয়ারবাজার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেই বিশ্ব পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পুঁজিবাজারগুলো সোমবার রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজার এবং আন্তর্জাতিক তেলের দামেও, যার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
নিউইয়র্কের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচকটি ১.৫ শতাংশ বেড়ে গত ২ জুনের রেকর্ড ৭,৬২০.৯০ পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থান করছে। প্রযুক্তি খাতভিত্তিক সূচক নাসডাক কম্পোজিট ২.১ শতাংশ লাফিয়ে তার সর্বকালের সর্বোচ্চ চূড়া থেকে সামান্য নিচে অবস্থান করছে এবং ৩০টি বৃহৎ কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১.৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৫৩,১৭৮.৪১ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
বাজারের এই উল্লম্ফনে নেতৃত্ব দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে কেবল অ্যাপল ছাড়া বাকি সব কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ারের দর ২.৯ শতাংশ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক টেসলার শেয়ারের দর ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত নেতিবাচক মনোভাবের পটভূমিতে কোনো সুনির্দিষ্ট মৌলিক কারণ ছাড়াই পুঁজিবাজারে এই ত্বরিত উত্থান ঘটেছে।
ভূরাজনৈতিক এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারেও। সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেলেও মঙ্গলবার এশিয়ার বাজার খোলার পর তা আবার বাড়তে শুরু করে। মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় ভোর দুইটায় সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের চেয়ে ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৪.৫০ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের এই ইতিবাচক প্রভাব এশিয়ার পুঁজিবাজারে খুব একটা দেখা যায়নি। মঙ্গলবার প্রারম্ভিক লেনদেনে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি থাকলেও পরবর্তীতে জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং উভয় সূচকই ০.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপের বিপুল চাহিদার কারণে ২০২৬ সালে চরম ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকটি এদিন ১.২ শতাংশ পতন প্রত্যক্ষ করেছে।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক সংঘাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন যে ইরানের সাথে আলোচনা চলছে এবং পুনরায় সামরিক হামলা চালানোর আগে তিনি তেহরানকে চুক্তিতে পৌঁছানোর শেষ সুযোগ দিতে চান। এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সাথে আলোচনার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনাও নেই। তবে ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান সমস্যাগুলো পরবর্তী ধাপে সমাধান করা হতে পারে।
