AdvertisementAdvertisement

কটিয়াদীতে আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশে গ্যাস পাইপলাইনে ভয়াবহ ছিদ্র আতঙ্কিত এলাকাবাসী

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে বড় ধরনের ছিদ্র দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উচ্চচাপে পাইপলাইন থেকে গ্যাস নিঃসৃত হওয়ায় নদের পানির ওপর ক্রমাগত বুদবুদ সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাতাসে তীব্র গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাতের অন্ধকারে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সহায়তায় নদীতীরের একটি চুন তৈরির কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন তালুকদার অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সুনামগঞ্জের ছাতকের বাজনামহল এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ওই কারখানাটিতে গ্যাস সংযোগ দিতে গিয়েই পাইপলাইনের ওয়েল্ডিং জয়েন্টে ফুটো তৈরি হয়। ঘটনার পর থেকেই কারখানাটি বন্ধ করে মালিক ও কর্মচারীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রায় তিন দশক আগে নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের উদ্দেশ্যে আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে এই সঞ্চালন লাইনটি স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ জন কর্মীর একটি দল টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে লিকেজ মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত নোমান মিয়া জানান, পানির নিচে পাইপলাইনের ওয়েল্ডিং অংশে বড় ধরনের ছিদ্র হওয়ায় মেরামত প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে।

তিতাস গ্যাসের কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি ময়মনসিংহ জোনের আওতাধীন হওয়ায় তারাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ জানিয়েছেন, কারখানাটির বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং অবৈধ সংযোগের চেষ্টার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে মূল্যবান প্রাকৃতিক গ্যাসের এমন অবিরত অপচয় ও সম্ভাব্য ভয়াবহ বিস্ফোরণের আশঙ্কায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত। এ ঘটনায় এলাকাবাসী জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং পাইপলাইনের লিকেজ স্থায়ীভাবে মেরামত করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%