জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গি এখন মাত্র একজন, ধরাছোঁয়ার বাইরে মহম্মদ লতিফ ভাট

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর উপত্যকায় সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা কমে বর্তমানে মাত্র একজনে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরে থাকা এই একমাত্র স্থানীয় জঙ্গি হলো কুলগামের বাসিন্দা মহম্মদ লতিফ ভাট। তাকে পাকড়াও করতে ভারতর সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সমন্বয়ে জোরদার যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, লতিফ ভাটের বিরুদ্ধে ছত্তিশগড়ের দুই পরিযায়ী শ্রমিক হত্যাকাণ্ড, গত ২২ জুলাই এক হেড কনস্টেবলকে গুলি করে হত্যা এবং অমরনাথ যাত্রাকে লক্ষ্য করে নাশকতার ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত ৮ জুলাই অনন্তনাগে লস্কর-ই-তইবার ‘এ’ ক্যাটাগরির জঙ্গি জাকির আহমেদ গনি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হলেও লতিফ ভাট সেই যাত্রায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। জাকির এবং লতিফ মূলত অমরনাথ যাত্রায় হামলার নীল-নকশা তৈরি করছিলেন বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছেন।
চলতি বছর মে মাসেও সরকারি নথিতে ১৭ জন সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির উল্লেখ ছিল, যা থেকে বর্তমান পরিস্থিতি এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে এই সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ জনের ঘরে ছিল। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে জঙ্গি কার্যকলাপে যুবকদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) কঠোর পদক্ষেপ এবং সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের ফলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর আর্থিক নেটওয়ার্ক এখন অনেকটাই দুর্বল।
তবে স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা একক অঙ্কে নেমে এলেও বিদেশি জঙ্গিদের উপস্থিতি এখনও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, উপত্যকায় বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ জন বিদেশি জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া লতিফ ভাটকে স্থানীয় কিছু মানুষ গোপনে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, লতিফ ভাট ‘কাশ্মীর রেভলিউশন আর্মি’ বা কেআরএ নামক একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, যা লস্কর-ই-তইবার একটি শাখা বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মনে করছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, লতিফ ভাটের নিখোঁজ হওয়ার সময়কাল বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকেই সে উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত হয়। ২২ জুলাইয়ের হেড কনস্টেবল হত্যা এবং শ্রমিক খুনের ঘটনায় একই ধরনের কর্মপদ্ধতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে উপত্যকার প্রতিটি জেলায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। লতিফ ভাটকে আইনের আওতায় আনাই এখন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
