মরক্কোর কারাবন্দি র্যাপার মেহদি এল ইউবি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন

মরক্কোর বিতর্কিত র্যাপার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহদি এল ইউবি দীর্ঘ ১৮ দিন কারাভোগের পর কাসাব্লাঙ্কার ওকাচা কারাগার থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পেয়েছেন। ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অবমাননা’র অভিযোগে গত ১৫ জুলাই তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে মুক্ত হলেও তার ওপর থেকে আইনি খড়গ পুরোপুরি সরেনি, আগামী ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
মেহদি ব্ল্যাক উইন্ড হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী বর্তমানে মরক্কোর দণ্ডবিধির ১৭৯ ধারায় বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। পাশাপাশি ২০ হাজার থেকে ২ লাখ মরক্কোর দিরহাম পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ২ হাজার ১৫০ থেকে ২১ হাজার ৫০০ ডলারের সমপরিমাণ। ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্সে বসবাসরত এই শিল্পী মরক্কোতে ফেরার পরপরই গত জুলাই মাসে তাকে আটক করা হয়।
তার অনুসারীদের দাবি, মেহদির এই কারাবাস মূলত তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত রাজনৈতিক মতাদর্শের বহিঃপ্রকাশ। আরব বসন্তের সময় থেকেই মেহদি তার গানের মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ছিলেন। মানবাধিকার কর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ওমর রাদি তাকে মরক্কোর সবচেয়ে স্পষ্টভাষী এবং রাজনৈতিকভাবে সোচ্চার র্যাপার হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মেহদির আটকের পর তার সমর্থকরা একে মরক্কোর তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের ওপর ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে গত বছর দেশটিতে যে তরুণ আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার সাথে সংহতি প্রকাশের কারণেই তিনি রাষ্ট্রের বিরাগভাজন হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরক্কোর মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, দেশব্যাপী এই বিক্ষোভে প্রায় ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছিল।
আইনজীবীদের বর্তমান ধর্মঘটের কারণে শুক্রবার আদালতে বিচারকের সামনে মেহদিকে একাই উপস্থিত হতে হয়েছিল, যা নিয়ে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে মরক্কোসহ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে তার মুক্তির দাবিতে গড়ে ওঠা জোরালো সমর্থন তাকে সাময়িক মুক্তি পেতে সহায়তা করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
