দক্ষিণবঙ্গে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি অব্যাহত, উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার দাপট অব্যাহত থাকলেও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সামগ্রিক পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমছে, তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি চরমে থাকবে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর, যা পাহাড় ও সংলগ্ন জনপদগুলোতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন অংশে আগামী দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই সময় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলোতেও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বজায় থাকবে বলে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
আজ শনিবার কলকাতার আকাশ মেঘলা থাকবে এবং দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ হতে পারে। মহানগরীতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা জনজীবনে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেবে। দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকলেও আর্দ্রতাজনিত কারণে গরমের হাত থেকে এখনই নিস্তার মিলছে না।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির ‘রেড অ্যালার্ট’ বা অতি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। টানা বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কিছু এলাকাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
