লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে মাশুল আরোপের গুঞ্জন নাকচ করল হুথি বিদ্রোহীরা

লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নতুন করে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ অবারিত রয়েছে দাবি করে গোষ্ঠীটি এ সম্পর্কিত সব জল্পনা নাকচ করে দিয়েছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানপন্থী এই গোষ্ঠীটি বাব আল-মানদেব প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জুলাই মাসে তেহরান সফরের সময় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক আদায়ের একটি কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
এশীয়, ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি তেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ বাব আল-মানদেব প্রণালী। গত বছর থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে হুতিরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান গ্রহণ করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা।
ইয়েমেনের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরা আল-জৌবা মঙ্গলবার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হুতিরা মূলত ইরানের মডেল অনুসরণ করে এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এই শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা কার্যকর হলে সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ হরমুজ প্রণালী অচল হয়ে পড়ায় দেশটি এখন বাব আল-মানদেবকে প্রধান রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহার করছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হুতিরা শিপিং এজেন্টদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বড় অংকের অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১৪ দেশের একটি জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
