দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশীয় বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে আগ্রহ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মালয়েশিয়ার একটি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দল সম্প্রতি এলাকাটি পরিদর্শন করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে তারা অঞ্চলটিতে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।
শুক্রবার বিকেলে প্রতিনিধিদলটি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো ও শিল্পায়নের সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে স্থানীয় বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটবে।
মালয়েশিয়ান প্রতিনিধি দলের প্রধান মি. সিম দেবীগঞ্জকে শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তাদের প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানি যুক্ত হবে। একই সঙ্গে এখানকার কৃষিপণ্যের সহজলভ্যতা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনের প্রচুর সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিনিধিদলটি মত প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে এ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ২৫০ দশমিক ৮৫ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৮৫ দশমিক ৮৬ একর জমি ইতিমধ্যে বেজার অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দেবীগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিনিয়োগকে উত্তরাঞ্চলের শিল্পায়নের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, বিদেশি বিনিয়োগের এই ধারা অব্যাহত থাকলে পঞ্চগড় জেলাসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।