যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, চরম মানবিক সংকটে ফিলিস্তিনিরা

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র হামলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার একাধিক এলাকায় নতুন করে উচ্ছেদের নির্দেশ জারির পরপরই ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত দুইজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা সিটির বিভিন্ন বসতিতে চালানো এই হামলায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বুরেইজ ও জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং জায়তুন ও তাল আল-হাওয়া এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে। আল-আহলি হাসপাতালের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জায়তুন এলাকায় একটি ভবনে আঘাত হানলে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। গাজা সিটির একটি এলাকায় হামলায় সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই ওই একই এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। রাতের অন্ধকারে আতঙ্কের মধ্যে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষদের এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী বা আইএসএফ মোতায়েনের প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রতি দ্রুত এই বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে মরক্কো গাজায় নিরাপত্তা কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি একটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ বা প্রায় ১৪ লাখ মানুষ এখনো তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জরুরি প্রস্তুতি বিভাগের পরিচালক রস স্মিথ সতর্ক করে বলেছেন যে, গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক এবং আশঙ্কাজনক। ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক মহলের নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা ও মানবিক করিডোর সচল রাখা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে ইসরায়েলের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। দেশটির নতুন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কেবল দুর্ভিক্ষ রোধ করাই সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। ইসরায়েলের বাধার কারণে গাজায় পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা