ইরান ও ইরাকের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার নতুন চুক্তি স্বাক্ষর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে জোর

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে ইরানে অবস্থান করছেন। তেহরানে আয়োজিত এক যৌথ সভায় দুই দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা পররাষ্ট্র, অর্থ, অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন বলে ইরাকি বার্তা সংস্থা আইএনএ বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আইএসআইএল বা আইসিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার জন্য ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাগদাদ তেহরানের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন এবং কোনো পক্ষ থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈরী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, একটি সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা পরিকল্পনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসারে রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তাকে অবিচ্ছেদ্য হিসেবেও অভিহিত করেন।

ইরান ও ইরাকের মধ্যে বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় বন্ধন অত্যন্ত গভীর। ইরাক প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য অনেকাংশে ইরানের ওপর নির্ভরশীল এবং দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া প্রতি বছর লাখ লাখ ইরানি শিয়া তীর্থযাত্রী ইরাকের পবিত্র স্থানসমূহ পরিদর্শন করেন, যা দুই দেশের জনগণের মাঝে এক আত্মিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক গালেব আল-দামি আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, অত্যন্ত জটিল এক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সফরটি সম্পন্ন হচ্ছে। বাগদাদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন কমিয়ে আনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরাকের ভূমিকা জোরদার করা।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%