গোদাগাড়ীতে মারধরের অভিযোগে নিহত শ্রমিকের লাশ দাফন ময়নাতদন্ত নিয়ে স্বজনদের ক্ষোভ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট পৌরসভার সুরসুনিপাড়া মহল্লায় প্রতিপক্ষের মারধরের শিকার হয়ে শাওন আলী নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পেশায় নির্মাণশ্রমিক ২৫ বছর বয়সী শাওন গত সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের জন্য ২২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পুলিশের সহায়তা না পাওয়ায় অবশেষে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন এবং ১ জুলাই দুই দফায় পাওনা টাকা চাওয়া ও গাছ খাওয়া নিয়ে প্রতিবেশী মো. রানা, তার বাবা মহবুল ইসলাম এবং মা রিনা বেগমের হামলার শিকার হন শাওন। এ ঘটনায় শাওনের স্ত্রী আদরী বেগম গোদাগাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৭ জুলাই শাওন হাসপাতালে ভর্তি হলে তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু, কার্ডিওজেনিক শক ও রক্তে সংক্রমণের কথা উল্লেখ থাকায় ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ। তবে স্বজনদের দাবি, মারধরের কারণে শাওনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছিল এবং সেই আঘাত থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মহবুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন, ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তির সময় বিষয়টি পুলিশ কেস হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় এবং মৃত্যুসনদে ডেঙ্গুর উল্লেখ থাকায় ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%