লর্ডসে শেষ লড়াকু রোহিত বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে কি স্বপ্নভঙ্গের দীর্ঘশ্বাস নাকি অবসর রহস্যের নতুন মোড়

রবিবার লর্ডসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে ম্যাচটি কি রোহিত শর্মার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকবে? এই প্রশ্নটি এখন ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ওয়ানডে ক্রিকেটে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির মালিক রোহিত নিজে অবশ্য মাঠ ছাড়তে রাজি নন। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে আরও কিছুদিন খেলে যেতে চান এই ডানহাতি ব্যাটার। তবে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিজের ভাগ্য আর নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই ভারতীয় দলের প্রাক্তন এই অধিনায়কের। তার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে নির্বাচক প্যানেল ও টিম ম্যানেজমেন্টের কঠোর সিদ্ধান্তের ওপর।
পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান ওয়ানডে ফর্ম মোটেও আশাব্যঞ্জক নয় রোহিতের জন্য। সর্বশেষ ৮ ইনিংসে ৩০.১২ গড়ে তার সংগ্রহ মাত্র ২৪১ রান, যেখানে স্ট্রাইক রেট ৮৮.৬০। পুরো সিরিজে মাত্র একটি অর্ধশতক হাঁকাতে পারা রোহিতের পারফরম্যান্স নির্বাচকদের ভাবিয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, তরুণ তুর্কি যশস্বী জয়সওয়াল মাত্র ৩ ম্যাচেই তুলে নিয়েছেন ২৩০ রান। এমন ফর্মে থাকা তরুণকে বসিয়ে রেখে রোহিতকে টানা খেলানো কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে জোর বিতর্ক চলছে। ২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজাতে গিয়ে নির্বাচকরা যে বড় পরিবর্তনের দিকে হাঁটছেন, তা স্পষ্ট।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোহিত শর্মা ও নির্বাচকদের মধ্যে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কয়েকদফা আলোচনা হয়েছে। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের উপস্থিতিতে হওয়া এই আলোচনায় রোহিত তার খেলার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছেও তিনি নিজের মনের কথা খুলে বলেছেন। তবে সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচকদের সঙ্গে তার মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। একদিকে রোহিত নিজের স্বপ্নের পথে অটল থাকতে চাইছেন, অন্যদিকে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার চাপে তার ক্যারিয়ারের যতিচিহ্ন পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটি বেশ জটিল। একাংশের মতে, রোহিত স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছেন না। আবার অন্য একটি পক্ষ দাবি করছে, কোচ ও নির্বাচকদের উদাসীনতায় বিরক্ত হয়ে তিনি নিজেই হয়তো সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যাতে ভবিষ্যতের কোনো প্রতিভাবান তারকার পথ রুদ্ধ না হয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জেতানো এই অধিনায়ককে এভাবে বিদায় নিতে হলে তা হবে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক বিষাদময় অধ্যায়।
এদিকে, রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডালপালা গজানো এই গুঞ্জন নিয়ে বিসিসিআই বেশ বিব্রত। বোর্ডের পক্ষ থেকে নির্বাচকদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য না করেন। এই নির্দেশনার পেছনে গোপন কোনো সত্য লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। লর্ডসের বাইশ গজে রবিবারের ম্যাচটি কি শেষ পর্যন্ত রোহিতের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দেবে, নাকি তিনি আবারও নিজের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার রসদ পাবেন—সেটাই এখন দেখার বিষয়।