ইসরায়েলি পার্লামেন্ট বিলুপ্ত, ২৭ অক্টোবর নির্বাচনের পথে দেশটি

ইসরায়েলের আইনসভা নেসেট শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম দেশটির কোনো সংসদ তার পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করল। আসন্ন ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটল, যা ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করছে।

বিজ্ঞাপন

গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান, ইরান ও লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের মতো চরম বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে এই সংসদের সময়কাল। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী সরকারের শাসনামলে সংঘটিত এসব ঘটনায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাডি আইজেনকোটের নবগঠিত ‘ইয়াশার’ পার্টি বর্তমানে ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জরিপে ইয়াশার পার্টির ২৩টি এবং লিকুদ পার্টির ২২টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচনী মাঠের অন্য প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিডের যৌথ জোট ‘টুগেদার’ ১৬টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো নেতানিয়াহুর শাসনপদ্ধতি ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সমালোচনা করলেও, গাজা যুদ্ধ বা সামরিক অভিযানের মূল কৌশল নিয়ে তাদের অবস্থান ক্ষমতাসীনদের চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়।

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় জোট সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার গঠনের জন্য নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ৬১টি আসন প্রয়োজন। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বিরোধী জোট ৫৯টি আসন এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ব্লক ৫১টি আসন পেতে পারে, বাকি ১০টি আসন আরব দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে আল্ট্রা-অর্থোডক্স জনগোষ্ঠীর বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা। অতীতে রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে এই গোষ্ঠীকে সামরিক দায়িত্ব থেকে ছাড় দেওয়ার যে নীতি নেতানিয়াহু অনুসরণ করেছেন, তার তীব্র বিরোধিতা করছেন বিরোধী প্রার্থীরা। ব্যক্তিগত জীবনে গাজা যুদ্ধে নিজের পুত্রকে হারানোর পর গাডি আইজেনকোটসহ অন্যান্য নেতারা এই নীতি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%