২০৩০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূলধারায় আফগান নারী শরণার্থী দল লক্ষ্য নির্ধারণ করল আইসিসি

আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। এডিনবরায় অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে ২০৩০ সালের মধ্যে শরণার্থী নারী ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক ইভেন্টের বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া আফগান নারী ক্রিকেটারদের স্বপ্নপূরণে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আইসিসি তাদের বিশেষ টাস্কফোর্সকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। এই টাস্কফোর্সে আইসিসির স্বাধীন পরিচালক রস রিভাজ, সিইসি সদস্য সারাহ কিনসহ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আগামী পাঁচ বছর এই দলটি শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ, উচ্চতর দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির বিষয়টি তদারকি করবে। তবে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সমর্থন না থাকায় এই দলটি সরাসরি আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবে না।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও কানাডায় অবস্থানরত নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারা নিজ নিজ দেশে স্থানীয় ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে প্রশিক্ষণের জন্য একত্রিত হচ্ছেন। এর আগে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন ট্যুর এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই দলের অংশগ্রহণ তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। বিশেষ করে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সহায়তায় আয়োজিত ম্যাচগুলো তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আফগান ক্রিকেটার নাহিদা সপন জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি তাদের কেবল খেলার মাঠেই ফিরিয়ে আনেনি, বরং একটি দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আরেক খেলোয়াড় ফিরোজা আফগান বলেন, ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতা তাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা তাদের কঠোর পরিশ্রম করার জন্য একটি স্পষ্ট গন্তব্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মেল জোন্সের নেতৃত্বাধীন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইটস গেম অন’ এই খেলোয়াড়দের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মেল জোন্সের মতে, এই উদ্যোগ কেবল একটি খেলার সুযোগ নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা প্রতিভাবান নারীদের প্রতি একটি বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি। ২০৩০ সাল নাগাদ এই দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত- ক্রিকেট খবর
0%
0%
0%
0%