বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো জমকালো হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবারসহ তারকাবহুল লাইনআপের ঘোষণা

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ফাইনাল ম্যাচের হাফ-টাইম শো ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। ফিফার ঘোষণা অনুযায়ী, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এই জমকালো আয়োজনে পারফর্ম করবেন কানাডিয়ান সুপারস্টার জাস্টিন বিবার। ১১ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু বর্ণিল পরিবেশনায় বিবারের সঙ্গে থাকছেন ম্যাডোনা, শাকিরা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস। পুরো আয়োজনটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের ক্রিস মার্টিন।
ফিফার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, এই বিশেষ পরিবেশনাটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হতে যাচ্ছে, যেখানে অন্তত ২০০ কোটি দর্শক চোখ রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল শিল্পীদের পাশাপাশি এই মহাযজ্ঞে দেখা মিলবে সিসেমি স্ট্রিট এবং দ্য মাপেটসের জনপ্রিয় চরিত্রদের। নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয় এবং ভেনিজুয়েলার প্রখ্যাত কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেলও এই তারকাবহুল তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া নিউ ইয়র্কের পিএস২২ কোরাস দলের শিক্ষার্থীদের সাথে কোল্ডপ্লের যৌথ পরিবেশনা বাড়তি আকর্ষণ যোগ করবে।
ফুটবল আইন অনুযায়ী, বিরতির সময়কাল সাধারণত ১৫ মিনিটের বেশি হতে পারে না। তবে মঞ্চ তৈরি ও সরানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আয়োজকরা তৎপর থাকায় ১১ মিনিটের এই শো নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন যে, কোনোভাবেই বিরতির সময়কাল মাত্রাতিরিক্ত বাড়ানো হবে না। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে এই ধরনের আয়োজনের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, যা বেশ সাড়া ফেলেছিল।
বিশ্বব্যাপী শিশুদের শিক্ষার প্রসারে অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এর সহায়তায় এই আয়োজনটি পরিচালিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ১০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাস্টিন বিবার এক বিবৃতিতে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধার এমন সুযোগ পাওয়াটা সম্মানের এবং শিশুদের শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রাখতে পারাটা বাড়তি পাওনা। গ্লোবাল সিটিজেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিউ ইভান্সের মতে, লাইভ এইডের পর এটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় শিল্পীদের মিলনমেলা হতে যাচ্ছে।