সিলেটের অনিয়ম ও দুর্নীতি দমনে বিদায়ী জেলা প্রশাসকের ভূমিকায় মন্ত্রীর সন্তোষ প্রকাশ

সিলেট জেলায় দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূরীকরণে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সরোয়ার আলম সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বুধবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বিদায়ী জেলা প্রশাসক সিলেটবাসীর সামনে অনেক অজানা ও অসংগতিপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন, যা বিভিন্ন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত করেছে।
সিলেটের আর্থিক ও সেবামূলক খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে জেলা প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ জনমনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদায়ী জেলা প্রশাসকের শুরু করা সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সরকারের পক্ষ থেকেও এসব কাজে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
মাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মাজারের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। জেলা প্রশাসক মো. সরোয়ার আলমের বদলি বা প্রত্যাহারের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত রুটিন কার্যক্রমের অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
উল্লেখ্য যে, দায়িত্ব পালনকালে জেলা প্রশাসক মো. সরোয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা করেছিলেন। পরবর্তীকালে মাত্র চার দিনের মাথায় সেগুলো খুলে গণনা করে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং সাত আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি ও সেবাখাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।