শ্রীপুরের কাঁঠালের মৌসুমে কর্মচাঞ্চল্য ও বিদেশে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা

গাজীপুরের শ্রীপুরজুড়ে এখন চলছে কাঁঠাল বেচাকেনার ভরা মৌসুম। প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে রসালো পাকা কাঁঠাল, আর বাগান থেকেই পাইকাররা কিনে নিচ্ছেন পুরো মৌসুমের ফলন। মিষ্টি স্বাদ ও সুগন্ধের কারণে শ্রীপুরের কাঁঠালের সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় এই মৌসুমে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গাজীপুরের চারটি উপজেলায় কাঁঠাল উৎপাদন হলেও শ্রীপুরের ফলন সবার শীর্ষে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে গাজীপুরের কাঁঠাল ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের মর্যাদা লাভ করে। এরপর থেকে দেশজুড়ে এই ফলের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতিতে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যমতে, শ্রীপুরে বছরে গড়ে প্রায় ৭৮ হাজার টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে খাজা, গালা ও দুরসা জাতের ফলই প্রধান। চলতি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে উন্নত মানের খাজা জাতের কাঁঠাল ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় চাষিদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

উপজেলার জৈনাবাজার এলাকাটি কাঁঠাল কেনাবেচার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এছাড়া টেংরা, উজিলাব, নগরহাওলা, চকপাড়া, টেপিরবাড়ি, রাজাবাড়ি, ছাতির বাজার, কেওয়া ও চন্নাপাড়ার হাটগুলোতে প্রতিদিন ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানযোগে শত শত কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। পাইকারি বাজারে আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ১০০ কাঁঠাল তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শ্রীপুরের মাটি ও জলবায়ু কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো এখানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বারি-১ থেকে শুরু করে বারি-৫ পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের কাঁঠাল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করায় চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে স্থানীয়রা সতর্কবার্তা দিয়ে বলছেন, নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ না করলে এবং নতুন চারা রোপণে উৎসাহ না দিলে গাজীপুর ভবিষ্যতে তার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হিমশিম খাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, কাঁঠাল কেবল কাঁচা অবস্থায় বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আচার, চিপস ও রেডি-টু-কুক পণ্য তৈরির মাধ্যমে কাঁঠালের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। একই সঙ্গে বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রীপুরের কাঁঠালকে বিশ্ববাজারে জনপ্রিয় করার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

0%
0%
0%
0%