Itel Super 26 Ultra
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- ২০ হাজার টাকার বাজেটে প্রিমিয়াম ৩ডি কার্ভড (3D Curved) অ্যামোলেড ডিসপ্লে।
- ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট, যা এই প্রাইস সেগমেন্টে অবিশ্বাস্য।
- ৬০০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি, যা স্লিম ডিজাইনের মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত।
- গরিলা গ্লাস ৭আই (Gorilla Glass 7i) প্রোটেকশন, যা ডিসপ্লেকে এক্সট্রা সুরক্ষা দেয়।
- এনএফসি (NFC) এবং আইআর ব্লাস্টার (IR Blaster) সুবিধা রয়েছে।
- ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা দিয়ে বেশ ভালো মানের ছবি তোলা সম্ভব।
- মাত্র ১৮ ওয়াটের চার্জিং স্পিড, যা ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি চার্জ করতে দীর্ঘ সময় নেয়।
- ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক নেই, যা সাধারণ ইউজারদের জন্য অসুবিধাজনক।
- মেমোরি কার্ড স্লট নেই, তাই স্টোরেজ বাড়ানোর সুযোগ নেই।
- ইউনিসক টি৭৩০০ (Unisoc T7300) চিপসেটটি হেভি গেমিংয়ের জন্য খুব একটা শক্তিশালী নয়।
- ভিডিও রেকর্ডিংয়ে ভালো মানের স্ট্যাবিলাইজেশনের অভাব রয়েছে।
বিস্তারিত
Itel Super 26 Ultra market price in Bangladesh is BDT 20,990 (Official). আইটেল (Itel) মানেই একসময় ছিল কমদামী বাটন ফোন বা এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোনের সমার্থক শব্দ। কিন্তু গত কয়েক বছরে আইটেল তাদের ব্র্যান্ড ইমেজ সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছে। ‘এস’ (S) সিরিজের সফলতার পর এবার তারা বাজারে এনেছে তাদের ফ্ল্যাগশিপ লেভেল লুকের স্মার্টফোন—Itel Super 26 Ultra। ২০২৫ সালের শেষার্ধে এসে আইটেল প্রমাণ করতে চাইছে যে, ২০-২২ হাজার টাকা বাজেটেও প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপের ছোঁয়া পাওয়া সম্ভব। এই ফোনটির মূল ইউএসপি (USP) হলো এর ডিজাইন এবং ডিসপ্লে। চলুন, বিস্তারিত রিভিউতে দেখা যাক এটি আসলে কতটা কাজের।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি Itel Super 26 Ultra হাতে নিলে বিশ্বাস করা কঠিন হয় যে এটি একটি মিড-বাজেট ফোন। এর ৬.৮ মিমি এর অবিশ্বাস্য স্লিম বডি এবং কার্ভড এজ ডিজাইন একে দেখতে ৪০-৫০ হাজার টাকার ফোনের মতো প্রিমিয়াম করে তুলেছে। ফোনটির ওজন মাত্র ১৮৫ গ্রাম, যা ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারির ফোন হিসেবে বেশ হালকা। পেছনের প্যানেলে গ্লোসি ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে যা আলোতে রঙ বদলায়। বিশেষ করে ‘ব্লাশ পিঙ্ক’ কালারটি নারী ব্যবহারকারীদের নজর কাড়বে। তবে ফোনটি অত্যন্ত স্লিম হওয়ায় হাত থেকে পিছলে পড়ার ভয় থাকে, তাই কভার ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ক্যামেরা মডিউলটি বেশ বড় এবং বৃত্তাকার, যা বর্তমান ট্রেন্ডের সাথে মানানসই।
ডিসপ্লে এবং ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিয়েন্স এই ফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ডিসপ্লে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির একটি ৩ডি কার্ভড (3D Curved) অ্যামোলেড প্যানেল। শুধু তাই নয়, এতে রয়েছে ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। এই বাজেটে সাধারণত ৯০ বা ১২০ হার্টজ দেখা যায়, কিন্তু ১৪৪ হার্টজ দেওয়াটা আইটেলের পক্ষ থেকে একটি বড় ধামাকা। ডিসপ্লের কালার, কন্ট্রাস্ট এবং ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল চমৎকার। বেজেলগুলো এতই সরু যে ভিডিও দেখার সময় মনে হয় শুধু স্ক্রিনটিই ভাসছে। গরিলা গ্লাস ৭আই (Gorilla Glass 7i) প্রোটেকশন থাকায় হাত থেকে পড়ে গেলে ডিসপ্লে ভেঙে যাওয়ার ভয় কিছুটা কম। নেটফ্লিক্স বা ইউটিউব কন্টেন্ট দেখার জন্য এই ডিসপ্লেটি নিঃসন্দেহে সেগমেন্ট সেরা।
পারফরম্যান্স এবং হার্ডওয়্যার সৌন্দর্য্যে ১০০ তে ১০০ পেলেও, পারফরম্যান্সে ফোনটি কিছুটা আপোষ করেছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইউনিসক টি৭৩০০ (Unisoc T7300) প্রসেসর। এটি একটি ৬ ন্যানোমিটার চিপসেট যা দৈনন্দিন কাজের জন্য বেশ ভালো। অ্যাপ ওপেন করা, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা বা মাল্টিটাস্কিংয়ে কোনো সমস্যা হয় না। ৮ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ থাকায় ইউজাররা স্বাচ্ছন্দ্যে অনেক অ্যাপ এবং ফাইল রাখতে পারবেন।
তবে গেমিংয়ের ক্ষেত্রে এটি খুব একটা শক্তিশালী নয়। PUBG বা Free Fire গেমগুলো মিডিয়াম গ্রাফিক্সে খেলা যায়, কিন্তু হাই গ্রাফিক্স বা ১৪৪ হার্টজের সুবিধা গেমিংয়ে পুরোপুরি পাওয়া যায় না। মালি-জি৫৭ জিপিইউ ভারী গেম হ্যান্ডেল করতে গিয়ে মাঝে মাঝে স্ট্রাগল করে। তবে সাধারণ ইউজার বা যারা গেম খেলেন না, তাদের জন্য পারফরম্যান্স নিয়ে অভিযোগের কোনো সুযোগ নেই। ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৫ ভিত্তিক আইটেল ওএস ১৫-এ চলে, যেখানে কিছু নতুন এআই (AI) ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।
ব্যাটারি এবং চার্জিং আইটেল এখানে একটি অদ্ভুত কাজ করেছে। তারা ফোনটিতে ৬০০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি দিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এত স্লিম বডিতে এত বড় ব্যাটারি ফিট করা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি ভালো উদাহরণ। সাধারণ ব্যবহারে এই ফোনটি অনায়াসেই দুই দিন পর্যন্ত চলতে পারে।
কিন্তু সমস্যা হলো এর চার্জিং স্পিড নিয়ে। বক্সে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৮ ওয়াটের চার্জার। ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ১৮ ওয়াট দিয়ে চার্জ করতে প্রায় ৩ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে। ২০২৫ সালে এসে যেখানে প্রতিযোগীরা ৩৩ ওয়াট বা ৪৫ ওয়াট চার্জিং দিচ্ছে, সেখানে ১৮ ওয়াট মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। যারা রাতে ফোন চার্জে দেন তাদের সমস্যা নেই, কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত চার্জ দেওয়ার কোনো উপায় নেই।
ক্যামেরা সেকশন Itel Super 26 Ultra-এর পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা এবং একটি ২ মেগাপিক্সেলের সেকেন্ডারি সেন্সর রয়েছে। দিনের আলোতে মেইন ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো বেশ শার্প এবং ডিটেইলড হয়। কালার সায়েন্স কিছুটা স্যাচুরেটেড, যা ছবিগুলোকে এডিট ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ার উপযোগী করে তোলে। পোর্ট্রেট মোডে এজ ডিটেকশন মোটামুটি ভালো কাজ করে।
সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। সেলফি লাভারদের জন্য এটি একটি ভালো খবর। স্কিন টোন কিছুটা ফর্সা করলেও ছবির ডিটেইলস ভালো থাকে। ভিডিওর ক্ষেত্রে এটি ২কে (2K) রেজোলিউশন পর্যন্ত রেকর্ড করতে পারে, তবে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) বা ভালো মানের ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলাইজেশন (EIS) না থাকায় ভিডিও ফুটেজ বেশ কাঁপাকাঁপি করে। রাতে বা কম আলোতে ছবির মান খুব একটা ভালো নয়, নয়েজ স্পষ্ট বোঝা যায়।
অডিও এবং কানেক্টিভিটি ফোনটিতে সিঙ্গেল স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে, যা যথেষ্ট লাউড কিন্তু স্টেরিও স্পিকারের মতো ইমার্সিভ নয়। হতাশাজনক বিষয় হলো এতে ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক নেই। অর্থাৎ গান শুনতে হলে আপনাকে ব্লুটুথ হেডফোন বা টাইপ-সি কনভার্টার ব্যবহার করতে হবে। তবে আইটেল এই ফোনে এনএফসি (NFC) এবং আইআর ব্লাস্টার (IR Blaster) সুবিধা দিয়েছে। আইআর ব্লাস্টার দিয়ে আপনি ফোনটিকে টিভি বা এসির রিমোট হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন, যা এই বাজেটে খুবই বিরল এবং কাজের ফিচার।
নিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তার জন্য এতে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে। অপটিক্যাল সেন্সরটি বেশ ফাস্ট এবং একুরেট। ফেস আনলকও দ্রুত কাজ করে। ফোনটিতে আইপি রেটিং (IP Rating) থাকার দাবি করা হয়েছে, যা হালকা পানির ঝাপটা থেকে ফোনকে রক্ষা করবে।
Itel Super 26 Ultra ফোনটি তাদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যারা মূলত ফোনের লুকস বা দর্শনধারীতে বিশ্বাসী। আপনি যদি এমন কেউ হন যার প্রধান কাজ হলো ভিডিও দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা এবং একটি স্টাইলিশ ফোন হাতে রাখা, তবে এটি আপনার জন্য সেরা চয়েস। ২০ হাজার টাকায় এমন কার্ভড ডিসপ্লে এবং ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া কঠিন।
কিন্তু আপনি যদি একজন হার্ডকোর গেমার হন অথবা ফাস্ট চার্জিং আপনার জন্য খুব জরুরি হয়, তবে এই ফোনটি আপনাকে হতাশ করতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি শাওমি বা ইনফিনিক্সের অন্য মডেলগুলো দেখতে পারেন। দিনশেষে, আইটেল তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর জন্য যে চেষ্টা করছে, Super 26 Ultra তার একটি চমৎকার উদাহরণ।